ভূয়া বাদী সেজে জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে বিচারকের মামলা

Ezazul Ezazul

Haque

প্রকাশিত: ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪১:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০১৯

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ভূয়া বাদী সেজে আদালতের সাথে প্রতারণার অভিযোগে দুই আইনজীবীকে শোকজসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন সিলেট যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক মো. সাজেদুল করিম। ১৬ অক্টোবর কতোয়ালী সিলেটের বিজ্ঞ আমলী আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। আর এই প্রতারণার মূল হোতা হচ্ছেন টুলটিকর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মছব্বিরের ভাতিজা শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার আবুল বশরের ছেলে এনামূল হক ও সাইফুল হক।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন, শাহপরাণ থানার ৯নং বস্তির সুরেশ মুড়ার স্ত্রী বড়মনি, মন্টু মুড়ার মেয়ে সুশান্তি মুড়া, বড়জান চা বাগানের মহন বাক্তির স্ত্রী যমুনা মাহালি, শাহপরাণ থানার নিজ শ্রমনভাগ চা বাগানের মৃত মন্ডল মুন্ডার ছেলে সুনীল মুন্ডা, ৯নং বস্তির নৃত্য লাল মোড়ার ছেলে মিন্টু মুড়া, টুলটিকর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মছব্বিরের ভাতিজা শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার আবুল বশরের ছেলে এনামূল হক ও সাইফুল হক।
উক্ত মামলায় বিচারক মো. সাহেদুল করিম অভিযোগ করেন, ১৫ অক্টোবর ২৭৭/২০১৪ নং মামলার দিন ধার্য্য তারিখ ছিলো। ঐ দিন মামলার বাদী ও বিবাদীগণের মদ্যে আপোস হয়েছে মর্মে একটি সোলেনামা দাখিল করা হয়। সোলেনামাটি স্বত্ব মামলার বাদী পারন মুড়া, পদ্মাবতী মুড়া, কর্মী মুড়া, সারথী মুড়া, বেবতী মুড়া এবং বিবাদী এডভোকেট এনামূল হক ও সাইফুল হক কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সোলেনামায় বাদীপক্ষে এডভোকেট এনামূল করিম আজাদ ও বিবাদী পক্ষে এডভোকেট মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষর করেন। পরে বাদী পক্ষে বিজ্ঞ কৌশুলী বাদীগণের জাতীয় পরিচয়পত্র আদালতে উপস্থাপন করলে দেখা যায় যে, বাদী হিসেবে সোলেনামায় স্বাক্ষরকারীরা কেউই মামলার বাদী নন। পরবর্তীতে তারা নিজেই স্বীকার করেন যে তারা উক্ত মামলার বাদী নন।
বিবাদীপক্ষে কৌশুলী আদালতে লিখিতভাবে জানান যে, ২৭৭/২০১৪ নং মামলার সুলেনামায় তিনি সরল বিশ্বাসে স্বাক্ষর করেছেন। যা শিবগঞ্জ সেনপাড়ার বাসিন্দা আবুল বশরের ছেলে এনামুল হক ও সাইফুল হক প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছেন। ভূয়া বাদীদের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে জাল সুলেনামা সম্পাদন করে আদালতে দাখিল করেছেন। যা দ্যা প্যানেল কোড ১৮৬০ এর ২০৫/৪৬৬/৩৪ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মামলার আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে সিলেট সদর উপজেলার জাহানপুরের বাসিন্দা পরানমুড়া, কর্মী মুড়া, পদ্মাবতী মুড়া, বেরতী মুড়া, সারথী মুড়া ও মালতী মুড়া জেলা যুগ্ম দায়রা জজের দ্বিতীয় আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় বিবাদী করা হয় সিলেট নগরের শিবগঞ্জ সেনপাড়ার বাসিন্দা এনামূল হক ও সাইফুল হককে। এই দুইজন জাল দলিলের মাধ্যমে সিলেট সদর উপজেলা মেজরটিলার প্রায় ১ একর জমি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়। মামলার আরজিতে ঐ জাল দলিল বাতিলের আবেদন করা হয়।
গত ৩০ আগস্ট বাদী কর্মী মুড়া, পদ্মাবতী মুড়া ও মালতী মুড়ার নামে আদালতে একটি আপোসনামা দাখিল করেন বিবাদীপক্ষের সহকারী আইনজীবী এনামুল করিম। আদালতে সেটির উপর শুনানীর জন্য গত ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য্য করেন। ঐদিন দুপুর ১২টার দিকে শুনানী শুরু হয়। এ সময় আইনজীবী ছয়জনকে হাজির করেন। যারা নিজেদের বাদী মিন্টু মুড়া, সুনীল মুড়া, রতœামণি মুড়া, শুশান্তি মুড়া, সবিতা মুড়া ও যমুনা মাহলী বলে পরিচয় দেন। কিন্তু আসলে তারা ছিলেন ভূয়া বাদী। বিষয়টি জানতে পারেন মামলার প্রকৃত বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ফজলুর রহমান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করে প্রকৃত বাদী পরান মুড়া ও মালতী মুড়াকে আদালতে হাজির করেন। তারা নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্র আদালতে প্রদর্শন করেন। আদালতের বিচারক সাজেদুল করিম জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পারেন। তিনি মামলার বিবাদী পক্ষের সহকারী আইনজীবী আব্দুর রহমান ও প্রধান আইনজীবী এনামূল করিমকে প্রথমে মৌখিকভাবে সতর্ক করেন। সেই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন।
বিচারক সাজেদুল করিম আইনজীবী এনামূল করিমকে বলেন, দলিলে তো বাদীদের ছবি রয়েছে। তারপরও আপনি বাদী চেনেন না? এসময় এনামূল করিম ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন।
বাদী সেজে উপস্থিত হওয়া ছয়জন আদালতের কাছে স্বীকার করেন, টাকার বিনিময়ে আলমগীর নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তারা আদালতে এসেছেন। তবে আলমগীরের নাম ঠিাকনা বলতে পারেননি তারা। তারা আদালতকে নিজেদের সিলেট খাদিমপাড়া ও খাদিম বাগানের চা শ্রমিক বলে পরিচয় দেন।
শুনানী শেষে বিচার সাজেদুল করিম বলেন, মামলার বিবাদীপক্ষ এবং তাদের আইনজীবীদের যোগসাজশেই এই জালিয়াতির চেষ্টা হয়েছে।
বাদী পরান মুড়া বলেন, ভূয়া বাদী উপস্থিত হওয়ার খবর পেয়ে তারা আদালতে হাজির হয়েছেন। এসে দেখেন, চারজন নারী ও দুজন পুরুষ তাদের নাম পরিচয় ব্যবহার করে আপসের জন্য আদালতে হাজির হয়েছেন। এই ছয়জনকে তিনি এর আগে কোন দিন দেখেননি।